জামালপুরের দিনরাত্রি

Rafa Noman

মাঝে মাঝে চারদিক শূন্য হয়ে আসে বেঁচে থাকার ইচ্ছে চলে যায় মনে হয় পুরো সৌরজগৎ এর ভর আমি একাই বহন করছি, ভারে আমার মাথা নুইয়ে যাচ্ছে রক্তচাপ বেড়ে যায়। তখন সন্ধ্যার অন্ধকার গাঢ় হতেই ক্ষুধারত উইপোকাদের উদরের জ্বালা মেটানোর জন্য  আমার গলিত স্তবির লাশ নিয়ে ছুটোছুটি করে তারা। ঠিক সেই মুহুর্তে এক পৃথিবী হতাশা নিয়ে বিভ্রমে পরি। এই বিভ্রম আমাকে কল্পনায় নিয়ে যায়। প্রতিবার একই কল্পনাজগৎ এ বিচরন করি, কিন্তু সেটা বুঝে উঠার আগেই যে কোন অজ্ঞাত কারনে আমার জ্ঞান ফিরে আসে খুব চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না তখন কি হয়েছিল।

 

ঠিক এই মুহুর্তে এমনি বিভ্রমে পরেছি জামালপুর টাউন স্টেশনে ট্রেন থেমে আছে সবাই নেমে গেছে প্রায়! আমাকে ঠেলে একজন নামতে গিয়ে আমার বিভ্রম ভেঙ্গে গেছে। রাতের প্রথম প্রহরে তীব্র মেজাজ খারাপ নিয়ে ট্রেন থেকে নামছি। মুরাদ ভাই আর আবীর কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ঘুরে নদীপথে জামালপুর পৌঁছেছে বিকেলেই  হোটলে উঠেছেন উনারা আমার রাতের গন্তব্য সেখানেই। জামালপুর থাকতে চাইলে মেডিকেল রোড, সকাল বাজার,গেইটপাড় এলাকায় বেশ কিছু হোটেল পাবেন চাইলে দেখেশুনে উঠে যেতে পারেন।

 

আমাদের ময়মনসিংহ বিভাগের এই দিকে তেমন আসা হয়নি তাও আবার কুড়িগ্রাম গাইবান্ধা দিয়ে জলপথে। তাই আমাদের এই যাত্রা। মুরাদ ভাই ও আবীর ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম হয়ে জামালপুর আর আমি কিশোরগঞ্জ থেকে গফরগাঁও হয়ে  জামালপুর এসেছি। জামালপুর বেশ জুইতের শহর!

 

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, দিল্লির সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে (১৫৫৬-১৬০৫) হযরত শাহ জামাল নামে একজন ধর্মপ্রচারক ইয়েমেন থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ২০০ জন অনুসারী নিয়ে এ অঞ্চলে এসেছিলেন। পরবর্তীতে ধর্মীয় নেতা হিসাবে তিনি দ্রুত প্রাধান্য বিস্তার লাভ করেন। ধারণা করা হয়, শাহ জামাল-এর নামানুসারে এই শহরের নামকরণ হয় জামালপুর। ময়মনসিংহ জেলার অধীনে ১৮৪৫ সালে জামালপুর মহকুমা গঠিত হয়।

 

হোটেলে এসে মুরাদ ভাইয়ের পরিচিত একজনের সাথে জম্পেস আড্ডা দিয়ে প্রসিদ্ধ সব খাবার খেয়ে সকালে বের হয়েছি জামালপুর দর্শনে। আমাদের প্রথম যাত্রা হযরত শাহ জামাল এর মাজার। শহরের যে প্রান্তেই থাকেন অটো রিকসাকে বললেই নিয়ে আসবে মাজারে।

হযরত শাহ জামাল এর মাজার

জামালপুর সদর উপজেলার পুলিশ সুপারের কার্যলয় পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত এই অঞ্চলের সাধক পুরুষ হযরত শাহ জামাল (র:) – এর সমাধি। এখানে সমাধিক্ষেত্র ছাড়াও পুরনো একটি সুন্দর মসজিদ আছে। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। ১৫৮৬ খ্রি: সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে হযরত শাহ জামাল (র:) ধর্ম প্রচারের জন্য এই অঞ্চলে আগমন করেন।

এই সুফি দরবেশ সুদূর মধ্যপ্রাচ্যর ইয়েমেন থেকে এসে খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদ এর তীরে আস্তানা স্থাপন করেন।

হযরত শাহ জামাল এর মাজার

হযরত শাহ জামাল (র:) একজন পীর কামেল লোক ছিলেন। তার আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও অলৌকিক ক্ষমতার কথা দিল্লির মুঘল দরবার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ঐ সময় বাদশা আকবর হযরত শাহ জামাল (র.) এখানকার ব্যয়ভার বহন করতে ইচ্ছা পোষণ করে এবং সিংহজানির অধীনে কয়েকটি পরগনা পীরপাল দানের সনদ পাঠায়। এই লোভনীয় প্রস্তাব সুফি দরবেশ হযরত শাহ জামাল (র:) অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে, তার নামে এই অঞ্চলে নামকরণ করা হয় জামালপুর। এখানে প্রতি বছর ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়ে ওরস পালন করেন। বর্তমানে এটি আধুনিক নির্মাণ শৈলীতে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত জিয়ারত ও বিভিন্ন উদ্দেশ্যে মানতে দিতে আসে এখানে।

হযরত শাহ জামাল এর মাজার

মাজার থেকে বের হয়ে অটো কিংবা  রিকসায় যেতে পারেন ৩০০ বছরের পুরনো দয়াময়ী মন্দিরে, শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ১৬৯৮ এ তৈরী এই মন্দিরটি।

মুর্শিদকুলি খাঁর সময়ে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন জায়গিরদার শ্রী কৃষ্ণ রায় চৌধুরী। তিনি ছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার অন্তর্গত গৌরিপুর রামগোপালপুর জমিদারের জাফরশাহী পরগনার জায়গীরদার। পরবর্তীতে মন্দিরটি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন তৎকালীন রাণী শ্রীমতি নারায়ণী রায় চৌধুরী।

   

দয়াময়ী মন্দির

জনশ্রুতি রয়েছে জায়গীরদার শ্রী কৃষ্ণ রায় চৌধুরী ঔরশজাত সন্তান রাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর সহধর্মীণি রাধারঙ্গিনী দেবী চৌধুরানী। তিনি স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে স্বামীকে অনুরোধ করে পরবর্তি মন্দিরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে দয়াময়ী মন্দিরের নাম করণ করেন।

হাজারও ইতিহাসের স্বাক্ষী কারুকার্যপূর্ণ মন্দিরটিতে প্রতিদিনই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা অর্চনা করে থাকেন। এছাড়াও দূর্গাপূজার সময় লাখ লাখ ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয়ে থাকে মন্দিরটিতে। আবার চৈত্রমাসে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান উৎসবের পর মন্দির ও তার আশপাশে চলে ৪ দিনব্যাপী মেলা। গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোও এখানে নানাভাবে উদযাপিত হয়।

দয়াময়ী মন্দির

মন্দির থেকে বের হয়ে শহরে শহীদ মিনার, পৌর পার্ক, আলেয়া গার্ডেন, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ও শহর থেকে কাছেই লুসাই ভিলেজ ঘুরে আসতে পারেন। এবং শহর থেকে বের হয়ে আমাদের পরের গন্তব্য মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রম। যেখানে এক ছাদের নিচেই দেখতে পাওয়া যায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা তুলে ধরতেই জামালপুরের মেলান্দহের প্রত্যন্ত অঞ্চল কাপাশ হাটিয়া গ্রামে এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শহীদ মিনার

ব্রিটিশ শাসনামলে মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিল ভারতবর্ষের মানুষ। স্বদেশী চেতনায় ভারতজুড়ে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছিল গান্ধী আশ্রম। এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে সময় নাসির উদ্দিন সরকার নামে এক গান্ধীভক্ত জামালপুরের নিভৃত গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন গান্ধী আশ্রম।

 

দেশভাগের পর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ১৯৪৭ সালে আশ্রমটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ২০০৬ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয় আশ্রমটির কার্যক্রম। এ আশ্রমের মাধ্যমে গ্রামের মানুষদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাইসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গান্ধী আশ্রমের সেই সময়কার ঘরটিকে অক্ষত রেখে সেখানে সুতা তৈরির চরকা, গান্ধীর কিশোর থেকে শুরু করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নানা ছবি, গান্ধীর বাণী সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রম

 

পাশাপাশি মুক্তি সংগ্রামে বাঙালির বহুমাত্রিক ও বর্ণাঢ্য ইতিহাস সংরক্ষণের মহৎ উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে একই আঙ্গিনায় গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর। প্রতিষ্ঠান দুটির নানা স্মৃতিচিহ্ন দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। এ গান্ধী আশ্রম ও মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে উঠেছে ইতিহাস শিক্ষার পাঠশালা।

মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রম

মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘরে ব্রিটিশ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রামের নানা ছবি ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘরে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহাসিক কালপর্ব ভিত্তিক ইতিহাস গ্যালারিও যথেষ্ট সমৃদ্ধ।  আশ্রমটির পুরো এলাকা জুড়ে ফুল ও ফলের গাছে ভরপুর, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ ঘর তৈরী করা। আশ্রমের বাইরে ফসলের মাঠ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

 

জামালপুর এবং মেলান্দহ হতে সড়ক পথে খুব সহজেই সরাসরি গান্ধী আশ্রম যাওয়া যায়। জামালপুর সদর উপজেলার গেট পার থেকে অটোরিক্সা নিয়ে যেতে হবে হাজীপুর বাজার অথবা সরাসরি জাদুঘরে কিংবা জামালপুর থেকে সরাসরি অটো নিতে পারেন কাপাসহাটিয়া গ্রামে। রাস্তা সরু হওয়ায় মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বড় বাস নিয়ে যাওয়া যাবে না। তাই অটো কিংবা রিকসা দিয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে পারেন। রাস্তার দুই পাশে ফসলে সাজানো কৃষি বাড়িঘর দিয়ে হেঁটেও যেতে পারেন কিছুটা পথ।

জামালপুর কৃষি নিভর্র জেলা প্রচুর ফসল জন্মায় এখানে ব্রহ্মপুত্রের উর্ভর পলি দিয়ে এই জেলা অনেকটাই কৃষির জন্য আদর্শ হয়ে আছে।

গান্ধী আশ্রম থেকে বের হয়ে মেলান্দহ তেই মালঞ্চ মসজিদ ঘুরে আসতে পারেন। একদিনে সব ঘুরে শেষ করা কঠিন তাই জামালপুর একদিন থেকে পরদিন আবার শুরু করতে পারেন ঐতিহাসিক বাহাদুরাবাদ ফেরী ঘাট দিয়ে। সময় থাকলে গান্ধী আশ্রম থেকেই যেতে পারেন বাহাদুরাবাদ ঘাটে  মেলান্দাহ থেকে ইসলামপুর হয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাট কাছেই।

 

কখনও দেখেছেন রেলওয়ে ফেরি? এমনই ফেরির ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে বাহাদুরাবাদ ফেরি ঘাট। ১৯৩৮ সালে এই রেলওয়ে ফেরি চালু হয়। যার নাম দেওয়া হয় বাহাদুরাবাদ রেল ফেরি ঘাট। রেলে ফেরি পারাপার এটাও সম্ভব! কৌতূহল আর জনমুখে ছড়িয়ে পড়ল মুহূর্তে বাহাদুরাবাদ খ্যাতি অর্জন করল। আলোচিত ও ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাম ছড়িয়ে পড়ল দেশে ও বিদেশে।

বাহাদুরাবাদ রেল ফেরি ঘাট

১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে শেষ বিদ্রোহী নেতা সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নামানুসারে এই এলাকার নামকরণ করা হয় বাহাদুরাবাদ। শুধুমাত্র দেশেই নয়, একসময় এর পরিচিতি ছিল বিশ্বজুড়েই। বাহাদুরাবাদের বিশ্বখ্যাতি এনে দিয়েছিল একমাত্র এই ফেরি ঘাটটিই। একসময় বাংলাদেশের নৌ-থানার অন্তর্গত ছিল ৪টি ফেরি ঘাট। আর ২টি রেলওয়ে ফেরি ঘাটের মধ্যে একটি ছিল এই বাহাদুরাবাদ।

 

যমুনা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে বাহাদুরাবাদ ফেরি ঘাট যেন সময়ের নীরব সাক্ষী। ব্রিটিশ আমলে এই ঘাট উত্তরবঙ্গ আর ঢাকার মাঝে যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে আছে। সকালে ঘাট ঘুরে আবার বকশিগঞ্জ ফিরে সেখান থেকে সি এন জিতে চলে যেতে পারেন লাউচাপরা অবকাশ কেন্দ্রে।

 

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি মনোরম প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র, যা গারো পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ বন, পাহাড় ও লেকের সমন্বয়ে গঠিত এবং পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়; এখানে ওয়াচ টাওয়ার, রেস্ট হাউস (পাহাড়িকা বাংলো, বনফুল রিজর্ট), নৌ বিহার ও আদিবাসী জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়।

 

বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছবির মতো গারো পাহাড় দিয়ে ভারতের তুরা জেলাকে আলাদা করে রেখেছে বকশীগঞ্জ উপজেলা। ঘন সবুজ পাহাড়, বনভূমি সব সময় আকৃষ্ট করেছে ভ্রমণ পিপাসুদের। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে অজস্র ছোট-বড় ঝরণা ধারা, আদিবাসীদের পাহাড়ি গুচ্ছগ্রাম আর দিগন্ত জোড়া ঘন সবুজ সব মিলিয়ে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ সমারোহ।

লাউচাপরা অবকাশ কেন্দ্রে

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গা জুড়ে বাংলাদেশ অংশে বিশাল গারো পাহাড়। লাউচাপড়া ও ডুমুরতলা মৌজায় বিভক্ত পাহাড় আর বনভূমি এলাকাটি বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। মৌজা দুটির পাহাড়ের ঢাল দিয়ে অবস্থিত লাউচাপড়া,  পলাশতলা, দিঘলাকোনা, বাবলাকোনা, বালিজোড়া, গারোপাড়া, শুকনাথপাড়া, সোমনাথপাড়া, মেঘাদল, সাতানীপাড়া, বালুঝুড়ি গ্রামে গারো ছাড়াও রয়েছে হাজং, কোচদের বাস।

 

এই অঞ্চলে আদিবাসী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৭০০।প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য নিয়ে স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ি আদিবাসী গ্রামগুলো। আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন এক নজর দেখতে এখানে ছুটে আসে ভ্রমণ প্রিয়াসীরা। নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করতে প্রতি বছরেই শীত মৌসুমে ভিড় করে অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক। ভ্রমণ পিপাসুদের সরগমে পুরো শীত মৌসুম লাউচাপড়া হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। আদিবাসীদের হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর ছোট-বড় অস্থায়ী দোকান স্থান পায় পিকনিক স্পটে। পুরো শীত মৌসুম জুড়ে আদিবাসীদের মাঝে লক্ষ্য করা যায় উৎসবের আমেজ।  লাউচাপরাতে চাইলে সারাদিন ঘুরতে পারেন পরিবার নিয়ে, পুরো একটি দিনের প্ল্যান করতে পারেন।

 

প্রথমদিন জামালপুর শহরে শাহ জামাল এর মাজার দয়াময়ী মন্দির, বিভিন্ন পার্ক গান্ধী আশ্রম এবং বিকেলে বাহাদুরাবাদ ঘাটে ঘুরে ফিরতে পারেন সদরে সময় থাকলে দেওয়ানগঞ্জে চিনিকল ও যমুনা সার কারখানা ঘুরতে পারেন। কিংবা লাউচাপরা তে রিসোর্ট নিয়ে রাতে থেকে পরদিন পুরো দিন লাউচাপরা তে কাটিয়ে বকশিগঞ্জ কিংবা দেওয়ানগঞ্জ ফিরে বাসে বা ট্রেনে ঢাকা কিংবা আপনার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

 

আমরা শেরপুর যাচ্ছি পরবর্তী জেলা ঘুরতে। বলা যায় আমরা বাংলাদেশ ঘুরতে বের হয়েছি। এক জেলা থেকে অন্য জেলা ইতিহাস সংস্কৃতি খাদ্যাবাস জানতে হেটে বেড়াচ্ছি বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে। শেরপুরের খুব আছে এসে আমরা নেমে গেছি হেঁটে যাচ্ছি পথ সন্ধ্যা নামছে পৃথিবীর নিয়মিত কার্যক্রমের একটা এই সূর্য ডুবে যাওয়া। কি সুন্দর তবুও রোজ সন্ধ্যে নামার সাথে অবিনশ্বর মৃত্যুর জ্যোতি নিয়ে অদ্ভুত আঁধার নামে পৃথিবীতে।

 

বিঃদ্রঃ ঘুরতে গিয়ে কোথাও ময়লা ফেলবেন না এবং স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।

মে ২০২২

{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.singularReviewCountLabel }}
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.pluralReviewCountLabel }}
{{ options.labels.newReviewButton }}
{{ userData.canReview.message }}

Hi, I'm Rafa

Welcome to my world of exploration! I’m a passionate travel blogger from Bangladesh, dedicated to showcasing the incredible beauty and rich culture of my homeland.

Find us on Facebook