ভাওয়াল রাজার দেশে ( গাজীপুর)

Rafa Noman

“দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপরে
একটি শিশির বিন্দু”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই লাইনগুলো মাথায় ক’দিন ধরে খুব ঘুরছে। বেশ ক’বছর ঢাকায় আছি, এক অর্থে ঢাকার বাসিন্দাও বলা যায়। ঢাকার বাসিন্দা হয়ে ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া ধানের শীষের উপর শিশির খুঁজে পাওয়া মুসকিল।

 

শিশির পেতে হলে আগে তো ধান ক্ষেতে যেতে হবে কিন্তু এই ইট পাথরের জঙ্গলে এটা পাওয়া আর আকাশের তারা সংখ্যা হিসাব করা একই। এই অসাধ্য সাধন করতে ঢাকা থেকে বের হয়েছি গাজীপুরের উদ্দেশ্যে।  গাজীপুর নামটা শুনার পর চোখের সামনে ভেসে উঠে গাজীপুর চৌরাস্তার জ্যাম, মিল ফ্যক্টরী। এইরকম প্রাণহীন জায়গায় ধানের শীষের শিশির খুঁজে বের করা ভাবাটাই কঠিন। কিন্তু ইচ্ছে করলেই আপনি খুঁজে পাবেন তার জন্য খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না আপনাকে।

 

শহর গাজীপুরের আড়ালে এক গোপন সবুজ সৌন্দর্যের ভান্ডার পড়ে আছে যা  আমরা জানি না। কালিয়াকৈর, শ্রীপুরের একটা অংশ কাপাসিয়া,কালীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের সবুজ মেঠোপথ, লাল মাটির ছোট ছোট টিলার মতো গ্রাম আর গর্জন, গজারী, সেগুন ছোট ছোট বৃক্ষের অরন্য। কিংবা অরণ্যের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর সুন্দর রাস্তা।  আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য করবে।

 

বর্ষায় চেলাই নদীর কাছে বেলাই বিলের রুপ দেখে সারদিন কাটিয়ে দিতে পারেন। শাপলা- শালুকে ভরা বিলের মোহনীয় রুপ। ছোট ছোট নৌকাতে মাছ ধরা, দ্বীপের মত ভেসে থাকা গ্রাম প্রাকৃতিক অপরুপ রুপে ভরপুর। গাজীপুরের এতোসব রুপ একদিনে দেখা সম্ভব নয় যেহেতু ঢাকার কাছে তাই ডে ট্রিপ দিয়ে ফিরে আসতে পারেন ঢাকায় কিংবা গাজীপুরে প্রচুর রিসোর্ট আছে দু’একদিন থেকে পুরো গাজীপুরের রুপ দেখে আসতে পারেন।

 

ঢাকা থেকে ভোরের আলো ফোঁটার সাথে রওনা দিতে হবে। আর যদি ইচ্ছে থাকে প্রতিবার দু একটা করে জায়গায় যাবেন তাহলে ধীরে সুস্থে ঘুরতে পারেন। ঢাকার সব জায়গা থেকেই গাজীপুরগামী বাস কিংবা এয়ারপোর্ট বা কমলাপুর থেকে ট্রেনে আসতে পারেন। গাজীপুর চৌরাস্তা মূলত এখান থেকেই সব দিকে যাবার গাড়ি পাবেন। চৌরাস্তায় নেমে বাসে শিববাড়ী নেমে রিকসা দিয়ে রাজবাড়ী কিংবা অটো রিকসা বা সিএনজি পাবেন রাজবাড়ী বা ভাওয়াল রাজার বাড়ী আর ট্রেনে আসলে স্টেশনে নেমে রিকসা নিতে পারেন। সেখানেই প্রথম গন্তব্য ।

ভাওয়াল রাজার বাড়ি

বর্তমানে  বাংলাদেশর সবচেয়ে বড় রাজবাড়ী এই ভাওয়াল রাজার বাড়ি। এর কক্ষ সংখ্যা প্রায় ৩৬৫ টি। প্রধান ভবনটি এখন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং বাকী সব ভবনগুলো জেলা জজ কোর্টের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। ভাওয়াল রাজবাড়ী নির্মাণ শুরু করেন লোকনারায়ণ রায় আর সমাপ্তি টানেন রাজা কালীনারায়ণ রায়। এ রাজবাড়ীর পশ্চিম পাশে রয়েছে বিশাল একটি দিঘী এবং সামনে রয়েছে বিশাল সমতল মাঠ। রাজবাড়ীটির পুরো এলাকাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।

 

রাজবিলাস নামের একটি কামরা ছিল, যা জমিদারের মনোরঞ্জনের জন্য বরাদ্দ থাকতো। এছাড়া রাজার বিশ্রামাগার হাওয়ামহলও ছিল একই ভবনের নিচতলায়। দক্ষিণ দিকের খিলানযুক্ত উন্মুক্ত কক্ষটি হচ্ছে ’পদ্মনাভি’। মাঝের বড় ঘরটির নাম ‘রানীমহল’। ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৩৬৫টি কক্ষের ইতিহাস এ জমিদার বাড়ীটির। ভাওয়াল রাজবাড়ীর কাহিনী অবলম্বনে একটি সিনেমাও তৈরী করা হয়েছিল “সন্ন্যাসী রাজা” নামে যাতে উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবী অভিনয় করেছিলেন।

 

ভাওয়াল পরগনার রাজা ভাওয়ালের মেজো রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল, যা ইতিহাসে ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা নামে পরিচিত। ১৯৩০ সালে শুরু হয়ে ১৯৪৬ সালে শেষ হওয়া এই মামলাটি মোট ১৬ বছর ধরে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। মামলার রায় কী হবে—তা জানতে সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে শেষ দিন পর্যন্ত।

ভাওয়াল রাজার বাড়ি

এই মামলার মূল চরিত্র ছিলেন ভাওয়াল পরগনার জমিদার বংশের মেজো রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। ১৯০৯ সালে দার্জিলিংয়ে অবস্থানকালে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই রহস্যজনক ঘটনাকেই কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে দীর্ঘ এই ঐতিহাসিক মামলাটি। দীর্ঘ ১২ বছর পর একজন সাধু পরিচয়ে তিনি যখন ঢাকা এলেন, পরে ১৯২১ সালের ৪ মে তিনি নিজেকে কুমার রমেন্দ্রনারায়ন বলে ঘোষণা করলেন, সেই থেকে শুরু হল চাঞ্চল্যকর কাহিনী।

 

ভাওয়াল রাজবংশের ইতিহাস প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পন্ন পূর্ববঙ্গের ভাওয়াল পরগনার বিস্তৃতি ছিল ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার দুটি অঞ্চল জুরে। ভাওয়াল রাজার ইতিহাস মামলা নিয়ে বহু বই চলচিত্র নির্মাণ হয়েছে একটু ঘাটাঘাটি করলেই সব পেয়ে যাবেন।

 

ভাওয়ালে বহু প্রাচীন মন্দির,প্রাসাদ, গড়, সরোবর ও মূর্তির ভগ্নাবশেষ আছে। ভাওয়াল রাজবংশীয় ইতিহাস একটি সুদীর্ঘ ও অবছিন্ন ধারাবাহিক ঘটনা। আমাদের পরের গন্তব্য এই রাজবাড়ীর মৃত সদস্যদের সমাধি সৌধ বা ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী। রাজবাড়ি থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে চিলাই নদীর দক্ষিণ তীরে প্রায় ৫ একর জায়গাজুড়ে ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী নামের এই সমাধিসৌধটি স্থাপন করা হয়।

শ্মশানেশ্বরী

জমিদার পরিবারের সদস্যদের শবদাহ সৎকারের উদ্দেশ্যে ভাওয়াল পরিবারের মৃত সদস্যদের নামে নামফলক ও সৌধ এছাড়াও শ্মশান চত্বরে মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি শিবমন্দির রয়েছে। রাজবাড়ীর সামনে থেকে অটো রিকশা তে যাওয়া যায়। শ্মশানেশ্বরী থেকে বের হয়ে গ্রামের ভিতর থেকে ঘুরে আসতে পারেন। চিলাই নদীর পাশ দিয়ে রাস্থা গুলো চোখজুড়ানো সুন্দর।

 

রাজবাড়ী থেকে আমাদের আবার চৌরাস্তা ফিরে পরের গন্তব্য যেতে হবে। বাংলাদেশের একমাত্র সাফারি পার্ক। সাফারি পার্ক হলো বন্য প্রাণীদের জন্য একটি উন্মুক্ত ক্ষেত্র যেখানে তারা প্রাকৃতিক পরিবেশে অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং দর্শনার্থীরা নিরাপদভাবে তাদের পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

গাজীপুর সাফারি পার্ক

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় মাওনা ইউনিয়নে গাজীপুর সাফারি পার্ক অবস্থিত। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে শ্রীপুর কিংবা ময়মনসিংহ গামী যে কোন বাসে উঠে বাঘের বাজার নেমে অটো রিকসা দিয়ে যেতে হবে পার্কটিতে। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট দামে টিকিট কেটে ডুকতে হয় পার্কে।

গাজীপুর সাফারি পার্ক

ভাওয়াল গড়ের ছোট ছোট টিলা ও নিচু ভূমি সমৃদ্ধ বিশাল শালবনে তৈরি করা হয়েছে এই সাফারি পার্ক। ৩৬৯০ একর বিশাল আয়তনের এই পার্ক উপর থেকে দেখার জন্য রয়েছে পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। ঢাকার খুব কাছে হওয়ার কারনে আপনি ফ্যামিলি নিয়ে দিনে যেয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন। এখানের সবথেকে দারুন বিষয় হলো – এখানে আপনি থাকবেন খাঁচার মধ্যে আর বাঘ, সিংহরা আপনার চারপাশে ঘুরে বেড়াবে এমন একটা ভিন্ন অনুভূতি পাবেন। গাজীপুর সাফারি পার্কটিকে  ৫টি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে – কোর সাফারি, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক এবং বঙ্গবন্ধু স্কয়ার।

গাজীপুর সাফারি পার্ক

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে বের হয়ে বিকাল টা কিংবা গোটা একটা দিন কাটাতে পারেন প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদের নিজ হাতে গড়া নুহাশ পল্লীর সবুজ ঘাস আর দিঘী লীলাবতীর ঘাটে। সাফারী পার্কের সামনে থেকে সিএনজি বা অটো রিকশা নিয়ে যেতে পারেন নুহাশ পল্লী।

 

দিঘী লীলাবতী

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাকৃতিক নৈস্বর্গ নুহাশ পল্লী। পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র ও শুটিংস্পট হিসেবে বেশ পরিচিত এই জায়গাটি। নুহাশ পল্লী গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ৪০ বিঘা আয়তনের এই জায়গাটি পুত্র নুহাশের নামানুসারে তৈরি করেন হুমায়ূন আহমেদ। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ গামী বাসে উঠে হোতাপারা নেমে রিকসা বা অটো তে যেতে পারেন। কিংবদন্তী  সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতের স্পর্শে গড়া এই পল্লী বাগান বাড়ি। এখানে বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবার পরিজন নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন।

নুহাশ পল্লীর সবুজ ঘাসে

হুমায়ূন আহমেদ তার কল্পনার সমস্ত কিছুর বাস্তব রূপ দিয়েছেন এখানে। যারা তার পাঠক তারা খুব সহজেই এই বাগান বাড়ির প্রতিটি জিনিসকে মিলিয়ে নিতে পারবেন গল্পের একেকটি উপাদানের সঙ্গে। এখানে আছে বৃষ্টি বিলাস, ভুত বিলাস নামের বাড়ি। আছে ট্রি হাউজ এবং বিভিন্ন ভাস্কর্য্য। প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছের বাগানে সাজানো বাড়িটি। পদ্ম পুকুর, মৎস্য কন্যা এবং প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুকীর্তিও দেখতে পাবেন এখানে। আর নুহাশ পল্লীর লিচু গাছটির তলায় রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের সমাধীস্থল।

 

সমাধীতে  লেখা…..

কল্পনায় দেখেছি নুহাশ পল্লীর সবুজের মাঠে সাদা ধবধবে শ্বেত পাথরের কবর।” তার গায়ে লেখা চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে।’লাইনগুলো উনার এক বই থেকে নেয়া। নুহাশ পল্লী, দেখে ফিরতে পারেন ঢাকা। কিংবা গাজীপুরে বেশ কিছু রিসোর্ট আছে সেগুলো তে থাকতে পারেন। পরদিন  বের হয়ে আরো কিছু জায়গায় যেতে পারেন। যেমন রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

গাছগাছালিতে ঢাকা এ উদ্যানের প্রতিটি জায়গাই নজরকাড়া। সারি সারি বৃক্ষের মাঝে পায়ে চলা পথ। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য আছে বেঞ্চ কিংবা ছাউনি। বনের মাঝে কোথাও কোথাও চোখে পড়বে ধানক্ষেত। কোথাও আবার পুকুর কিংবা ছোট আকারের লেক। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল উদ্ভিদ হলো শাল। প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছপালা ও প্রায় ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণীও রয়েছে এ বনে।রাজেন্দ্রপুর থেকে কাপাসিয়া উপজেলার শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদ ঘুরে আসতে পারেন। কিংবা গাজীপুর চৌরাস্তা এসে কালিয়াকৈর যেতে পারেন।

 

কালিয়াকৈর উপজেলায় বলিয়াদি জমিদার বাড়ি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৪০০ বছরের ইতিহাস নিয়ে। পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর এক মনোরম পরিবেশ এই জমিদার বাড়ি। যে কারোর মন কাড়তে পাড়ে এখানকার বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশ। বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী এই এস্টেটের দিল্লী মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর কর্তৃক নিযুক্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সুবেদার নবাব কুতুবুদ্দিন সিদ্দিকীর পুত্র নবাব সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী বলিয়াদী এস্টেটের প্রথম কর্ণধার ছিলেন। কালিয়াকৈর বাইপাসে এসে সেখান থেকে রিকসা বা অটো তে যেতে পারেন এই জমিদার বাড়িতে।

কালিয়াকৈরে বালিয়াদি জমিদার বাড়ির পাশেই আরেক গ্রাম শ্রীফলতলীতে  আছে আরেকটি  জমিদার বাড়ি। রহিম নেওয়াজ খান চৌধুরীর মাধ্যমে এই জমিদার বাড়ির গোড়াপত্তন ঘটে। রহিম নেওয়াজ খানের পিতা খোদা নেওয়াজ খান শ্রীফলতলী জমিদার এস্টেটের কর্ণধার ছিলেন। শ্রীফলতলী জমিদার বাড়িটি জমিদারী পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হত। রহিম নেওয়াজ খানের প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ১০০ বছর আগে কালিয়াকৈর থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

যেকোনো দর্শনার্থী শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ির দুই তরফ অংশটি ঘুরে দেখতে পারেন। ছোট তরফ অংশে জমিদারের বর্তমান উত্তরাধীকারীগণ বসবাস করেন ফলে এখানে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন। বিভিন্ন ছবির শুটিংয়ের জন্য ছোট তরফ ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে। বড় ও ছোট তরফের মাঝামাঝি স্থানে একটি মসজিদ রয়েছে। কালিয়াকৈর থেকে ঢাকা ফিরতে পারেন সহজেই কিংবা চন্দ্রা চৌরাস্তা হয়ে আপনার নির্দিষ্ট গন্তব্যে ফিরতে পারেন।

 

আমি নুহাশ পল্লী থেকে বের হয়ে রাতে বাস ধরে ঢাকা ফিরবো। আজ জোছনা রাত তাই নুহাশ পল্লীর ম্যনেজার আমাদের প্রিয় বুলবুল ভাইকে বলে  রাতের প্রথম অংশ টা স্যারের প্রিয় নুহাশ পল্লী তে ছিলাম। শ্রাবন মাসের জোছনা এই আছে এই নাই। এক কালে আমি হিমু হতে চেয়েছিলাম হিমুর মত আচরণ করতাম দেখে বাসায় প্রচুর বকাঝকা খেয়ে আর মাঠে ঠিকে থাকতে পারি নি। আজ এই লীলাবতীর ঘাটে বসে পূর্ণ চন্দ্র দেখে মনে হচ্ছে মানুষের আসলে এক জীবনে কিছু দিনের জন্য হলেও হিমু হওয়া দরকার।

 

আমার খুব  ইচ্ছে করছে এই মুহুর্তে লীলাবতী তে নেমে যেতে।  এই ইচ্ছে কে বেশিক্ষণ মনের ভেতর চাপিয়ে রাখতে পারি নি। আর হিমু হতে গেলে মনের এইসব ইচ্ছে কে পুরোন করতে হয়।

 

শ্রাবনের জোছনায় দিঘি লীলাবতীতে বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে  ভাবছি।

 

“পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে।

শ্রাবন মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে।

সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না।

কোনো মানে হয়”

 

বিঃদ্রঃ ঘুরতে গিয়ে কোথাও ময়লা ফেলবেন না এবং স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।

 

জুলাই ২০২৩

{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.singularReviewCountLabel }}
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.pluralReviewCountLabel }}
{{ options.labels.newReviewButton }}
{{ userData.canReview.message }}

Hi, I'm Rafa

Welcome to my world of exploration! I’m a passionate travel blogger from Bangladesh, dedicated to showcasing the incredible beauty and rich culture of my homeland.

Find us on Facebook