পৃথিবীর সবচেয় বড় বৌদ্ধবিহারের নওগাঁ

Rafa Noman

এখানে একদিন যারা ছিলেন। আজ তারা নেই।যারা আছেন। তারা থাকবে না।  দুনিয়া ব্যাপক জুইতের। দুনিয়া দেখার, দেখুন।

কথাটা ছোট হলেও মনে দাগ কাটার মতো। গতকাল রাতে নওগাঁ শহরে এসেছি। এই অঞ্চল কে বরেন্দ্র ভূমি বলা হয়।বরেন্দ্র শব্দটাই কেমন জানি আদিম মনে হয়।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
                                                                                                                       পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

 

এখানে আদিম কিংবা আমাদের থেকেও যারা সত্যিকারের আধুনিক ছিল  আজ তারা নেই ইতিহাস মতে হাজার হাজার বছর পূর্বে এখানে বড় বড় সমৃদ্ধ নগরী ছিল তা আজ নেই।  এখন যে নগরী আছে তা হয়তো হাজার বছর পর থাকবে না।  দুনিয়া ব্যাপক জুইতের। তাই এটাকে দেখা উচিৎ

গতকাল নাটোর থেকে ট্রেনে শান্তাহার এসেছি। শান্তাহার থেকে নওগাঁ শহরে। জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে  রাতের আবাস। সরকারি বি এম সি মহিলা কলেজের পাশেই ডাকবাংলো। সুন্দর গুছানো ডাকবাংলো। যখন থেকে জেলা  ধরে ঘুরা শুরু করেছি তখন থেকেই সকাল ৬ টায় বের হই।  ভোরে বের হলে দিনটা বড় হয়ে যায়। শহরটাও জুইতমত ঘুরা যায়। ইতিহাস ঐতিহ্য ভরপুর নওগাঁ  জেলায় ভোরে  আমাদের প্রথম গন্তব্য দুবলাহাটী রাজবাড়ী।

নওগাঁ শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী দুবলাহাটী রাজবাড়ীর অবস্থান। বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে হাপানিয়া। হাপানিয়া থেকে ভ্যান বা অটো রিক্সায় দুবলহাটী রাজবাড়ী যাওয়া যায়। আমরা মুক্তির মোড় (ডাকবাংলোর কাছে)থেকে অটোরিক্সা দিয়ে শহর দেখতে দেখতে রাজবাড়ী আসছি

দুবলাহাটী রাজবাড়ী
                                                                                                                              দুবলাহাটী রাজবাড়ী

 

দুবলাহাটী রাজবাড়ী প্রায় দু’শ’ বছরের প্রাচীন স্থাপনা এবং তৎকালীন জমিদার রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর সময়ে এই বাড়িটির ব্যাপক উন্নতি সাধন হয়।

দুবলাহাটী রাজবাড়ী
                                                                                                                             দুবলাহাটী রাজবাড়ী

 

বিশাল এলাকাজুড়ে  দীঘি, মন্দির, স্কুল, দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছিল। রাজ-প্রাসাদের সামনে রোমান স্টাইলের বড় বড় পিলার গুলো রাজাদের রুচির পরিচয় বহন করে। প্রাসাদের ভিতর কোনটি ৩ তলা আবার কোনটি ছিল ৪ তলা ভবন। ১টি গোল্ডেন সিলভার ও ১টি আইভরির তৈরি সিংহাসন ছিল। ব্রিটিশরা সিংহাসন দু’টি নিয়ে যায়। ১৮৬৪ সালে রাজ পরিবারের উদ্যোগে একটি স্কুল স্থাপন করা হয় পরবর্তীতে স্কুলটি নামকরণ হয় রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয়।

দুবলাহাটী রাজবাড়ী
                                                                                                                           দুবলাহাটী রাজবাড়ী

 

স্থানীয় ঐতিহাসিকদের মতে রঘুনাথ নামের এক ব্যক্তি এ এলাকায় লবণ ও গুড়ের ব্যবসা করতেন। তিনি দীঘলি বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খয়রা নদী দিয়ে নৌকা যোগে দুবলহাটিতে ব্যবসার জন্য আসেন (বর্তমানে নদীর অস্তিত্ব  আর নেই)। তিনি প্রায় প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখতেন তাঁকে কে যেন বলছে, “তুই যেখানে নৌকা বেঁধেছিস সেখানে জলের নিচে রাজ রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা আছে। সেখান থেকে তুলে স্থাপন কর।” রঘুনাথ একদিন ভোরবেলা জলে নেমে দেখলেন সত্যিই সেখানে রাজ রাজেশ্বরীর প্রতিমা আছে। তিনি প্রতিমাটি জল থেকে তুলে একটি মাটির বেদী তৈরি করে প্রতিষ্ঠা করলেন। এরপর তাঁর ব্যবসায় ব্যাপক উন্নতি হতে থাকে। আরো অনেক মতামত আছে এই রাজবাড়ী নিয়ে তবে এটাই বহুল প্রচারিত।

দুবলাহাটী রাজবাড়ী
                                                                                                                            দুবলাহাটী রাজবাড়ী

 

১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দ এর দিকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তি হওয়ার পর রাজা হরনাথ রায় সপরিবারে চলে যান ভারতে। রাজবংশের স্মৃতিস্বরূপ থেকে যায় বিশাল সুরম্য অট্টালিকা দুবলহাটি রাজবাড়ী। পরবর্তীতে এটি সরকারি সম্পদ হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ নিজেদের অধীনে নিলেও এর জৌলুস ধরে রাখতে পারে নি অযত্নে অবহেলায় সব বাড়ি এখন ভগ্নপ্রায়।  একসময় যেখানে বিশাল প্রভাবশালী রাজা তার পাইক পেয়াদা নিয়ে থাকতেন তা এখন ধুলার সাথে মিশে যাবার উপক্রম।

বিকাল হলেই মাদক আড্ডাবাজদের মেলা বসে।  স্থানীয়রা একা যেতে নিষেধ করেন।  বাংলাদেশে অসংখ্য রাজবাড়ী এমন বেহাল দশাতে আছে । ঠিক ঠাক করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর   চালাতে পারে কিন্তু কি অলৌকিক কারণে হচ্ছে না জানি না।

দুবলাহাটী রাজবাড়ি ঘুরে আমাদের পরের গন্তব্য পাঁচ টাকা নোটের ছবি কুসুম্ব মসজিদ। এর ফাঁকে নওগাঁর বিখ্যাত প্যারা সন্ধেশ খেয়ে নিতে পারেন।  কালীতলা বুড়াকলী মাতা মন্দিরের পাশে মা নওগাঁ প্যারা সন্দেশ এর শতবর্ষী পুরোনো দোকানে পাবেন।  আমরা গত  রাতেই সন্ধেশর স্বাদ গ্রহণ করেছি।  এখন  কুসুম্ব মসজিদে যাবার  পালা।

কুসুম্ব মসজিদ
                                                                                                                               কুসুম্ব মসজিদ

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় অবস্থিত কুসুম্ব মসজিদ।দুবলাহাটী রাজবাড়ি থেকে হাপানিয়া মোড়ে এসে সেখান থেকে মান্দা উপজেলা সদরে এসে অটোরিক্সা নিয়ে সোজা কুসুম্ব মসজিদে। বাংলার সুলতানি আমলের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। ১৫৫৮ সালে আফগান শাসক গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহের শাসনকালে এটি নির্মিত হয়। মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সোলায়মান। যিনি সে সময়ের এক সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন।

কুসুম্ব মসজিদ
                                                                                                                               কুসুম্ব মসজিদ

এই মসজিদটি মূলত কালো পাথরের তৈরি। যা বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলোর মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে। এর গায়ে সূক্ষ্ম নকশা ও খোদাই করা অলঙ্করণ দেখা যায়। মসজিদটির ছয়টি গম্বুজ ও তিনটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। যা সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর অন্যান্য উদাহরণ। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত।

আপনি যদি একদিনে অনেক কিছু দেখতে চান তাহলে আপনাকে সময় নষ্ট না করে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে পরের গন্তব্যে।  ঘন্টার পর ঘন্টা জার্নি করতে হবে। আমরা মান্দা থেকে দ্রুত চলে যাচ্ছি বাংলাদেশের ইতিহাসের বড় এক পৃষ্ঠায়। হাজার বছরের পুরোনো শিক্ষাপিটে।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
                                                                                                                       পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

নওঁগাতে রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার বা বৌদ্ধদের বিশ্ববিদ্যালয়। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল স্থাপনা আবিষ্কার করেন।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
                                                                                                                        পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

১৯৮৫ সালে ইউনোস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে। আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার ( তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।১৯২৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এখানে খননকাজ চলে। খননকালে মাটির একটি সিল থেকে জানা যায়, এটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
                                                                                                                      পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

 

মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল।৮০০ জন ভিক্ষুর বাস উপযোগী ছিল। এই বিহারে ১২৫ নম্বর কক্ষে মাটির পাত্রে খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলের রৌপ্যমুদ্রা পাওয়া যায়। কোনো সাধক বা ধর্ম প্রচারক মুদ্রাগুলো এখানে এনেছিলেন বলে অনুমান করা হয়। পিরামিড আকৃতির এই মঠের উচ্চতা ৭০ ফুট। একটি শূন্যগর্ভ চতুষ্কোণ কক্ষকে কেন্দ্র করে এর অন্যান্য সংযোজনী গড়ে উঠেছে।

সমগ্র বিহারটি প্রাচীরবেষ্টিত। এর প্রবেশপথ এবং মূল ভবনে ওঠার সিঁড়ি ছিল উত্তর দিকে। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে বাস করতেন মহাপণ্ডিতাচার্য বোধিভদ্র। খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। তাঁর গুরু রত্নাকর এই বিহারের মহাস্থবির ছিলেন। এখানে মহাস্থবির বলতে প্রধান বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর উপাধি বিশেষ।এই বিহারে অবস্থান করতেন প্রাচীন চর্যা গীতিকার কাহ্নপা ও তাঁর গুরু জলন্দরী পা ওরফে হাড়ি পা। বিহার ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা সত্যপীরের ভিটা,গন্ধেশ্বরী মন্দির।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
                                                                                                                        পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

 

বিহারের প্রতিটি কোনে বৌদ্ধু ভিক্ষুদের পদচারনা এখনো মনে হয় লেগে আছে। হাজার বছর পূর্বে এতো মজবুত করে একটা বিশাল বিশ্ববিদ্যালয় করা ছিল ভাবা যায়! যত হাঁটছি মুগ্ধ হচ্ছি।  একদিন এখানে দেশ বিদেশের মানুষদের ভীর থাকতো আজ তা জনশুন্য। শুধু চিহ্ন আছে। আমার মন খারাপ হয় যদি এই ইতিহাসে ডুকতে পারতাম। যদি কখনো জান্নাতে যেতে পারি তাহলে আল্লাহর কাছে এইসব ইতিহাসের সময়গুলো দেখতে চাইবো!

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
                                                                                                                     পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার

 

পাহাড়পুরে আসতে চাইলে নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাসযোগে ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে যাওয়া যায়।  দূরত্ব আনুমানিক ৩২ কিঃমিঃ । অথবা দেশের যেকোন প্রান্ত হতে জয়পুরহাট শহরে এসে বাস অথবা অটোরিক্সা নিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার চলে আসতে পারবেন। জয়পুরহাট হতে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার

আলতাদীঘি
                                                                                                                              আলতাদীঘি

পাহাড়পুর থেকে আমরা আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে যাচ্ছি। সংগঠন করায় সুবিধা হয়েছে কোথায় গেলে কেউ না কেউ পরিচিত পেয়ে যাই। জয়পুরহাট থেকে আমাদের এক বড় ভাই এসেছে পাহাড়পুর থেকে আলতাদিঘি হয়ে জয়পুরহাট যাবো। রাতে জয়পুরহাট উনার এখানেই থাকবো। বাড়তি পাওনা হিসেবে বাইক পেয়েছি। আমার মত যারা বাজেট ট্রিপে ঘুরতে বের হবেন। তাদের খরচের দিকটা একটু খেয়াল রাখতে হয়। যত খরচ কম করা যায়। এমনিতে পাহাড়পুর সামনে বাজার থেকে ধামইরহাট গামী বাস বা সিএনজিতে ধামইরহাট পৌছে অটো দিয়ে আলতাদীঘি যাওয়া যায়।

আলতাদীঘি
                                                                                                                                  আলতাদীঘি

 

ধামইরহাট উপজেলার ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে আলতাদিঘী অন্যতম । ধামইরহাট উপজেলায় মোট বনভূমির পরিমাণ ১৪০১.৬৯ একর।  শুধু আলতাদিঘী জলাশয়ের আয়তন ৪২.৮১ একর। দিঘীটির উত্তর,দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে রয়েছে আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস প্রজাতির অপূর্ব বাগান। অপরদিকে দক্ষিণ পাশে মহিশুরে ও পশ্চিম পাশে দাদনপুরে রয়েছে প্রাকৃতিক শালবন ।

আলতাদীঘি
                                                                                                                            শালবনের রাস্তা

 

জনশ্রুতি আছে বরেন্দ্র অঞ্চলে এক সময় প্রবল খরার কারণে মাঠ-ঘাট সব পুড়েছিল চরম পানীয় জল সংকটে। প্রজাদের দাবীর কারণে স্থানীয় জগদল বিহারের (১০৭৭-১১২০ খ্রিঃ) রাজা রামপাল ও সদর পালের রাজ্য শাসনের সময় রাজমাতা প্রজাদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে পূত্রের কাছে বর চাইলেন। ওয়াদা করিয়ে নেন সকালে ঘুম থেকে ওঠে আমি যতদুর পর্যন্ত পায়ে হেটে যেতে পারব ততদূর পর্যন্ত একটি দিঘী খনন করে দিতে হবে। মায়ের কথায় বৃদ্ধমাতা হেটে চলেছেন তো চলেছেন আর তিনি থামেন না।  রাজা , উজির, নাজির, বেকায়দায়, এত লম্বা দিঘী খনন করবেন কি করে তাই কৌশলে বুড়ি মার পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে পা কেটে গেছে বলে তার চলার পথ বন্ধ করে দেন। সেই থেকে এই দিঘীর নামকরণ করা হয় আলতাদিঘী।

আলতাদীঘি
                                                                                                                        পিপঁড়ার ডিবি

 

শালবনের ভেতর দিয়ে হাঁটলে প্রকৃতির মায়ায় ডুবে যাওয়া যায়। মাঝে মাঝেই পিঁপড়ার ডিবি চোখে পরে।পিপঁড়ারা মাটি, বালু, শুকনো পাতা ও কাঠের টুকরো দিয়ে ডিবি তৈরি করে। কিছু প্রজাতি লালারস ব্যবহার করে এটি আরও শক্ত করে তোলে। ডিবির ভেতরে ছোট ছোট চেম্বার ও সুড়ঙ্গ থাকে। যেখানে তারা খাদ্য সংরক্ষণ, ডিম রাখা ও বিশ্রাম নেয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুযায়ী তারা ঢিবির গঠন ঠিক করে। যেন শুষ্ক জায়গায় মজবুত থাকে এবং বর্ষার জায়গায় পানি না ঢোকে।

সূর্য ডুবতে বসেছে শালবনের ভেতর দিয়ে হাটঁছি। সময় যতই যাচ্ছে, জঙ্গলের মোহ ততই আমাকে ক্রমে পেয়ে বসছে। এক এক জায়গায় ফাঁকা জঙ্গলের দিকে বনের কি অনুপম শোভা! কি এক ধরনের থোকা থোকা সাদা ফুল সারা বনের মাথা আলো ফুটিয়া আছে ছায়াগন অপরাহ্ণের নীল আকাশের তলে। মানুষের চোখের আড়ালে সভ্য জগতের সীমা থেকে বহুদূরে এত সৌন্দর্য আহারে! আমি বার বার আসতে চাই অরণ্য আর পাহাড় আমাকে টানে।

আলতাদীঘি তে মাঘের শুক্লাপক্ষের সপ্তমীর চাঁদ উঠতে শুরু করেছে। তীক্ষ্ণ আলো আমার শ্বাস ভারী করে তুলছে। আমি চাঁদের অপেক্ষায় বসে আছি শালবনে—ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, শুক্লা দ্বাদশী, কিংবা শুক্লাপক্ষের  পূর্ণতা দেখব বলে। কিন্তু পূর্ণতা তো অধরা। আমাদের জীবনই যেখানে অসম্পূর্ণতার গল্প। জীবন এত ছোট যে পূর্ণতার কথা ভাবতে গিয়েই শেষ হয়ে যায়।

মাঝে মাঝে মনে হয়  জীবন ছোট আনন্দ পেতে চাইলে এখনই পেতে হবে, দুঃখ পেতে চাইলে এখনই পেতে হবে। পৃথিবীতে এইরকম আরণ্যকে শুক্লাপক্ষের চাঁদ  বার-বার আসবে। এই আরন্যতে বসে অলৌকিক জোছনা দেখার জন্য আমি থাকব না।

কোনো মানে হয়!

বিঃদ্রঃ ঘুরতে গিয়ে কোথাও ময়লা ফেলবেন না এবং স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
 ফেব্রুয়ারি ২০১৮
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.singularReviewCountLabel }}
{{ reviewsTotal }}{{ options.labels.pluralReviewCountLabel }}
{{ options.labels.newReviewButton }}
{{ userData.canReview.message }}

Hi, I'm Rafa

Welcome to my world of exploration! I’m a passionate travel blogger from Bangladesh, dedicated to showcasing the incredible beauty and rich culture of my homeland.

Find us on Facebook